প্রেস রিলিজ: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাসিক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েট বৈঠক ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, এমপি ও সাইফুল আলম খান মিলন, এমপি।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন গতকাল ২ জুন (মঙ্গলবার) দুপুর ২টায় দারসুল কুরআনের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর বিগত মাসের রিপোর্ট পর্যালোচনা ও জুন মাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সভায় সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের ব্যক্তিগত ও বিভাগীয় রিপোর্ট এবং অঞ্চলভিত্তিক শাখাসমূহের রিপোর্ট পেশ ও পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ক্যাম্পাস পরিস্থিতি পর্যালোচনা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ এবং আগামী দিনের করণীয় নির্ধারণসহ বিভিন্ন এজেন্ডা আলোচনা করা হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, জনশক্তি বৃদ্ধি, শিক্ষা, দাওয়াহ, সমাজসেবা ও ছাত্রকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অবস্থা এবং আগামী সময়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বছরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে জুন মাসে শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে ও সামাজিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘১৪তম ইয়ুথ সামিট’ সফল করা, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নবীনবরণ এবং এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারীদের সংবর্ধনাসহ নানামুখী শিক্ষামূলক উদ্যোগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই বৈঠকে মাসব্যাপী দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। এছাড়াও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সেক্রেটারিয়েট বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে গভীর দায়িত্ব অনুভূতি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সংগঠনের মূল আমানত হলো আমাদের জনশক্তি। তাদের নৈতিক মান সংরক্ষণ, ক্যারিয়ার গঠন ও একাডেমিক যোগ্যতার বিকাশে নিবিড় তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও সাংগঠনিক কাজের যথাযথ তদারকি বজায় রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুন মাসের গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ, বিশেষ করে শিক্ষার্থীবান্ধব ও সামাজিক কর্মসূচিগুলো মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র অধিকার রক্ষা এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে মুক্ত করে একটি কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি শিক্ষার্থীদের অধিকার, মানবিক মূল্যবোধ এবং কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বৈঠক শেষে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে মাসিক সেক্রেটারিয়েট বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।