বেরোবি প্রতিনিধি মো. আল আমিন: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) র্যাগিংমুক্ত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১৭তম ও ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক দুটি র্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত উপাচার্যের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ দুটি কমিটি গঠন করা হয়।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২টি বিভাগের ১৭তম ও ১৮তম ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধিরা (সিআর) অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, “র্যাগিং একটি অমানবিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের র্যাগিং, মানসিক হয়রানি কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের কোনো স্থান নেই।” তিনি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদেরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমেই র্যাগিংমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। র্যাগিং-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ নির্ভয়ে প্রশাসনকে জানাতে এবং সবাইকে সচেতন থেকে র্যাগিং প্রতিরোধে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ১৭তম ব্যাচের ছয়জন এবং ১৮তম ব্যাচের ছয়জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পৃথক দুটি র্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, র্যাগিং প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এসব কমিটি কাজ করবে।