• ঢাকা |

শিশুদের দিয়ে বাজার-গৃহস্থালির কাজ, ক্লাসে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

কিশোরগঞ্জের হিলচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিযোগের পাহাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ৩১ নম্বর হিলচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ। নিয়মিত পাঠদান না করা, শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাজ করানো, টিফিন সরবরাহে অনিয়ম, আর্থিক অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ের ভবন রাতে অননুমোদিত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে অফিসকক্ষে অবস্থান করছেন। তাঁদের কেউ কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে ব্যস্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূরবী রানী সাহা ও সহকারী শিক্ষক মোবারক হোসেনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাঁরা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য দেননি।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে বাজার ও গৃহস্থালির কাজ
বিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো শিক্ষার্থীদের দিয়ে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাজ করানো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রধান শিক্ষক পূরবী রানী সাহার বাসার জন্য বাজার করানো, সকালে বাজার থেকে নাশতা নিয়ে আসা এবং বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষ পরিষ্কার করানো হয়।
কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী জানান, অতীতে তাঁরা প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে তাঁদের দিয়ে তাঁর পরিবারের শিশুদের দেখাশোনা, খাওয়ানো, গোসল করানো এবং কাপড় ধোয়ানোর মতো ব্যক্তিগত কাজ করানো হয়েছে।
একাধিক সাবেক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, এসব বিষয় নিয়ে কোনো কোনো সময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকের বাকবিতণ্ডাও হয়েছে।
দপ্তরিকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ
বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোবারক মিয়াকে ঘিরেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।
একজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, মোবারক মিয়া রাতে বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় স্থানীয় কয়েকজন মাদকসেবীকে নিয়ে মাদক সেবনের আসর বসানো হয়। সেখানে নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন রাতে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেখানে কারা অবস্থান করছে এবং সরকারি সম্পদ বা অবকাঠামো কোনো অননুমোদিত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়টি রাতে অরক্ষিত থাকলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সরকারি সম্পদের সুরক্ষাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
টিফিনেও অনিয়ম
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থা থাকলেও খাবারের মান ও সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয় এবং কোনো কোনো সময় দুই-তিন দিন পরপর খাবার সরবরাহ করা হয়। টিফিনের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অব্যবহৃত রেখে প্রধান শিক্ষক পূরবী রানী সাহা, সহকারী শিক্ষক মোবারক হোসেন ও দপ্তরি মোবারক মিয়ার মধ্যে ভাগাভাগি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ
বিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক শ্রীমতী নমীতা সাহা অবসর নেওয়ার পর পূরবী রানী সাহার প্রধান শিক্ষক পদে আসা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয়ের কর্মরত দুই সহকারী শিক্ষকের দাবি, পূরবী রানী সাহাকে প্রধান শিক্ষক এবং মোবারক হোসেনকে সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাইয়ে দিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এ ক্ষেত্রে যথাক্রমে তিন লাখ ও দুই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।
তবে এ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কোনো নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টির সার্বিক পরিস্থিতি, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়, টিফিন ব্যবস্থাপনা, সরকারি অর্থের ব্যবহার এবং রাতে বিদ্যালয় ভবন ব্যবহারের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।