এমএম রহমাতুল্লাহ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে হজ্জ যাত্রীদের জন্য একটি গাইডলাইন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলটির নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো ত্যাগ আর কোনো রাজনৈতিক দল স্বীকার করেনি। তিনি দাবি করেন, দলটির শীর্ষ ১১ জন নেতাকে বিচারিক হত্যার মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “অস্ত্র ও পেশি শক্তি দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না এবং ভবিষ্যতেও যাবে না।”
তিনি হজ্জ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, ইসলামী শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, হজ্জ যেমন সামর্থ্যবানদের জন্য ফরজ, তেমনি জমিনে দ্বীন কায়েম করাও ফরজ। তিনি সকল ফরজ বিধান যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, প্রকৃত সফলতা হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ড. খলিলুর রহমান মাদানী, মুফতি আলী হাসান ওসামা, মাওলানা জাকারিয়া নুরসহ বিভিন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমগণ।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা দেশের জন্য হুমকি। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে বিএনপি জনগণের রায়কে উপেক্ষা করেছে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় হজ্জ গাইডলাইন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল হক তানভীর। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও হজ্জ যাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।