• ঢাকা |

শান্তিরক্ষায় ভবিষ্যৎ মিশন হবে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর: প্রধানমন্ত্রী


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী শহীদ হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বমঞ্চে গৌরব ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে তারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।

তারেক রহমান জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের দুই লাখের বেশি সদস্য বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ১০টি মিশনে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগদানের প্রস্তুতিও চলছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্যও যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। প্রায় চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নিরাপত্তা সংকট নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, সরকার তা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বাংলাদেশ বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরা হয়। পরে শহীদ শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত সদস্যদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হলেও পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির কারণে বাংলাদেশে এবার দিবসটি ১০ জুন পালিত হচ্ছে।