• ঢাকা |

তাড়াশে হাটনির্ভর গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে  দীর্ঘ এক যুগেও হয়নি হাটের উন্নয়ন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

গোলাম মোস্তফা: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে প্রসিদ্ধ বিনসাড়া হাটে ৪০ বছর যাবৎ মাছের ব্যবসা করেন রহমত আলী। আব্দুর রহিমও তার বাবার হাত ধরে মাছের ব্যবসা শুরু করেন। বৃষ্টি কিংবা প্রখর রোদ যা কিছুই হোক, জীবিকার তাগিদে ভিজে-পুড়ে বেচাকেনা করেন তারা। রয়েছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মাছের সেডের ভাঙা টিনের চাল না জানি কখন তাদের মাথার উপরেই ভেঙে পড়ে!

কেবল ব্যবসায়ি নয়, এ হাটের ক্রেতাদেরও অনুরূপ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে, হাটে জায়গার অভাবে তাড়াশ-রাণীহাট আঞ্চলিক সড়কের ওপর ধানের হাট বসানোর কারণে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যেন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে চলছে ধান বেচাকেনা! বাংলা ১৪৩৩ সনের হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী, তাড়াশ উপজেলায় ২৯ টি হাট রয়েছে। সব হাট উপজেলা পরিষদের আওতাধীন। চলতি বছরও হাট ইজারা দিয়ে রাজস্ব পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৬ হাজার ৪৭৮ টাকা। রাজস্বের কোটি-কোটি টাকা ব্যাংকে পড়ে আছে। অথচ, দীর্ঘ এক যুগেরও অধিক সময়ে কোনো উন্নয়ন কাজ হয় নি হাটগুলোয়। মাছের ব্যবসায়ি মাধাইনগর ইউনিয়নের গুড়মা গ্রামের রহমত আলী ও আব্দুর রহিম বলেন, মাছের সেডের টিনের চাল না থাকায় বৃষ্টিতে ভিজে সর্দি ও জ্বরে ভুগি। ভাঙা সেড ভেঙে পড়ার ভয়ে আতঙ্কে থাকি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ‘ হাটের উন্নয়ন কাজ করা হোক। বিশেষ করে, বিনসাড়া হাটের মত আরও যেসব হাট রয়েছে সেগুলোর উন্নয়ন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ’ ক্রেতা-বিক্রেতারা আরও বলেন, হাটই তাদের একমাত্র ভরসা। কৃষিপণ্য, গবাদিপশু, শাকসবজি কেনাবেচাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সামগ্রী হাট থেকেই সংগ্রহ করেন তারা। খালেকুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি বলেন, তাড়াশ-রাণীহাট আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রতি সপ্তাহে বগুড়া যেতে হয় ব্যবসায়িক কাজে। বিনসাড়া হাটে সড়কের ওপর ধান বেচাকেনার কারণে সপ্তাহের রোববার ও বুধবার হাটের দুই দিন ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। বিনসাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মো. আব্দুস সালাম উসমানী বলেন, প্রায় দেড় ঘন্টা যানজটে আটকে রয়েছি। সময় মত অফিসে পৌঁছাতে পারছি না। আপনারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) হাটের উন্নয়ন কাজ করতে বলুন। ব্যস্ততম সড়কের ওপর থেকে ধানের হাট অন্যত্র সরিয়ে দিতে বলুন। বিনসাড়া হাটের ইজারাদার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হাটের মধ্যে হাটের জায়গাতে প্রায় পৌনে দুই বিঘা আয়তনের একটি পুকুর রয়েছে। মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাট করা হলে তবেই সড়কের ওপর থেকে ধানের হাট সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। অপরদিকে বৃহত্তর নওগাঁ হাটের ইজারাদার মো. সুমিত হাসান জিল্লুর বলেন, সিরাজগঞ্জসহ আশাপাশের কয়েক জেলার মধ্যে গবাদিপশু বেচাকেনার সবচেয়ে বড় হাট নওগাঁ। এ হাটের জায়গা সংকুলান একটি বড় সমস্যা। হাটের জায়গার অভাবে কলেজ মাঠেও পশুর হাট বসাতে হয়। হাটের সাথে উত্তর পাশে হাটের জায়গাতে স্বল্প গভীরতার বেশ বড় একটি পকুর রয়েছে। মাটি ফেলে পুকুরটি ভরাট করা হলে গবাদিপশুর হাট বসানো যেত। নওগাঁ জিন্দানী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. বেলাল হোসেন আনসারী বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবার কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়। অনেক লোকজনের সমাগম ঘটে। শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারে না। বৃহস্পতিবার পাঠদান বন্ধ থাকে। হাটের পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হলে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারত। সরেজমিনে প্রসিদ্ধ বিনসাড়া হাট, গুল্টা হাট ও বৃহত্তর নওগাঁ হাট ঘুরে দেখা গেছে, কোনো হাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, স্যানিটেশন সুবিধা অপ্রতুল। মাছের সেডগুলো ভেঙে পড়েছে। রাস্তাগুলো বেহাল। কস্মিনকালে সেড নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিটি হাটের খোলা জায়গায় বসেছে কাঁচা তরকারির হাট। বিনসাড়া ধানের হাট তাড়াশ-রাণীহাট আঞ্চলিক সড়কের ওপর বসানোর কারণে তীব্র যানজট লেগে রয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই সড়ক না কি ধানের হাট! উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাট-বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুসরাত জাহান বলেন, আমি নিজেও হাটগুলো ঘুরে দেখেছি। ক্রেতা-বেক্রাতার অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রসাশক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউএনও নুসরাত জাহানকে বলে দিয়েছি, ‘ এ অর্থ বছরে হাট উন্নয়নের কাজ করতে।