• ঢাকা |

সংসদে কথা না শুনলে রাজপথের আন্দোলন চলবে: শফিকুর রহমান


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, জনদুর্ভোগ, গার্মেন্ট শিল্পের পরিস্থিতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের নীতির সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংসদে বিরোধী দলের কথা ও নোটিশের গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই রাজপথে কর্মসূচি দিতে হচ্ছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে বিরোধী দল সরকারকে গঠনমূলক পরামর্শ দিলেও তা সব সময় গ্রহণ করা হয় না। তবে অতীতের মতো সংসদে বিশৃঙ্খলা, ফাইল ছোড়াছুড়ি কিংবা চেয়ার ছোড়াছুড়ির সংস্কৃতিতে যেতে চান না তারা। জনগণের দাবি আদায়ে সে কারণেই রাজপথে নামতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি সাংবিধানিক স্তম্ভ—আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের বাইরে গণমাধ্যমকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে দেখা হয়। সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে তথ্যের ক্ষেত্রে সত্যনিষ্ঠ থাকার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান। সাংবাদিকদের কোনো সংগঠন বা কাঠামো থাকলে তার মাধ্যমে লিখিতভাবে সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন।

তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যও বাড়ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছে। জনস্বার্থবিরোধী বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমকে সম্মিলিতভাবে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

সরকার তাদের বক্তব্য আমলে না নিলে আন্দোলন চলবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমেই এর ফয়সালা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লংমার্চ নিয়ে বক্তব্য

চলমান লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতীকীভাবে কয়েকশ গাড়ি নিয়ে তারা কর্মসূচি পালন করছেন। প্রয়োজন হলে আরও বড় পরিসরেও কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তার দাবি, লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক দলের নয়; এগুলো জনগণের দাবি।

তিনি বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময় লংমার্চ হয়েছে এবং অতীতে সরকারি দলও তাদের সঙ্গে লংমার্চ করেছে।

১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চের আগে ককটেল বিস্ফোরণের জন্য বিরোধী দলকে দায়ী করার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তার দাবি, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ বাস্তবসম্মত নয়। বরং তিনি এর জন্য সরকারি দলের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ছাড়া এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চও করেছেন এবং কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা তাদের রয়েছে। তাদের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক থাকবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট ও ভোগান্তি হচ্ছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গ

মতবিনিময় সভায় জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের অবস্থানগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াত আগে থেকেই গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে।

সভায় তিনি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, গ্যাস সংকট, গার্মেন্ট শিল্প এবং জনদুর্ভোগ নিয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত অবস্থার খোঁজখবর নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এ ছাড়া নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।