• ঢাকা |

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই আপরাইজিং রান’ আয়োজন


নিউজ প্রকাশের তারিখ : ৩ আগস্ট, ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:

জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান

জাবি প্রতিনিধি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই আপরাইজিং রান- ২০২৬’ শীর্ষক একটি মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ‘জুলাই মোদের ধমনীতে টগবগ করবে আমৃত্যু’ স্লোগান এবং ‘ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দৌড়াও’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় দেড় হাজার রানার অংশ নেন।

সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-এর নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

উদ্বোধনী বক্তব্যে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। তাঁর ভাষ্য, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কার্যকর করার পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। অন্যথায় দেশের তরুণ সমাজ আবারও পরিবর্তনের দাবিতে সোচ্চার হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি নতুন বাংলাদেশ গঠনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার আহ্বান জানান।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই ও আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই বার্তা দিতেই এ আয়োজন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের চেতনাকে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ছাত্রশিবির বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

 

ম্যারাথনের নির্ধারিত রুট ছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে জীববিজ্ঞান অনুষদ, মীর মশাররফ হোসেন হল, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ, চৌরঙ্গী হয়ে আবার শহীদ মিনারে ফিরে আসা। পুরো পথজুড়ে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় ক্যাম্পাসে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।

 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিবন্ধিত প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে ইভেন্ট টি-শার্ট, রানিং কিট, জাতীয় পতাকা এবং ম্যারাথন শেষে সকালের নাশতা দেওয়া হয়।

 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মরণমূলক কর্মসূচির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মিনি ম্যারাথন শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে বক্তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও সরকারের সমালোচনামূলক মন্তব্য তাদের নিজস্ব মতামত বলে বিবেচ্য।