সৈয়দ জহুরুল হক টুটুল, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় খামার পরিচালনা, জমি লিজ, ঘাস ও ভুট্টা চাষে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও বেতন, লভ্যাংশ ও বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোঃ নাসিরুজ্জামান। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নাসিরুজ্জামান।
লিখিত বক্তব্যে নাসিরুজ্জামান জানান, ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর ‘মোহাম্মদীয়া’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ ইমামুল হক জনির আমন্ত্রণে ঢাকায় গিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির লজিস্টিক ইনচার্জ হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সেখানে কর্মরত অবস্থায় গরুর খামারের মালিক ইউসুফ আল আমিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ইউসুফ আল আমিন তাঁকে খামার পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে বিভিন্ন আশ্বাসের ভিত্তিতে ২০১৯ সাল থেকে তিনি খামার পরিচালনার দায়িত্ব নেন বলে দাবি করেন।
নাসিরুজ্জামানের দাবি, খামারের কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য আলফাডাঙ্গার মালা এলাকায় ২১ একর এবং শুকুরহাটায় ২৫ একরসহ বিভিন্ন স্থানে জমি লিজ নেওয়া হয়। এসব জমিতে ঘাস ও ভুট্টা চাষ, জমি পরিষ্কার, বীজ ও সার কেনা এবং শ্রমিকদের মজুরিসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
তবে বিপুল অর্থ ব্যয় করার পরও চুক্তি অনুযায়ী তাঁর বেতন, লভ্যাংশ ও পাওনা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তিনি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিজের বিনিয়োগ ও পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তাঁর নামে আদালতে মামলা ও আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এতে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
কৃষিকাজের বিষয়ে নাসিরুজ্জামান বলেন, ঘাস ও ভুট্টা চাষের সময় সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র, হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য নথি তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব যাচাই, বকেয়া বেতন ও পাওনা টাকা পরিশোধ, আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনগত সুরক্ষার দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউসুফ আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংবাদে যুক্ত করা হবে।